Showing posts with label হাওয়াই-মিঠাই. Show all posts
Showing posts with label হাওয়াই-মিঠাই. Show all posts

Tuesday, August 10, 2010

আঞ্চলিকতা বা অঞ্চল বিষয়ক কথকতা

হলে না থাকার সুবাদে আমাদের বন্ধু সোহাগকে প্রায়ই আজিমপুর থেকে মিরপুরগামী বাসে চড়তে হত ।প্রতিদিনই সে আশা করত কোন ত্বন্বী রমণী ভুবনমোহিনী হাসি হেসে তার পাশের আসনটিতে বসবে ,কিন্তু তার বদনের বেহাল হকিকতের কারণেই হোক ,বা অন্য কোন কারণেই হোক ,তার সে আশা প্রায়ই হত গুড়ে বালি । যাক ,বলছিলাম সোহাগের কথা ।একদিন তার সাথে মিরপুর লিংকে সহযাত্রী হল একজন বুড়োমত লোক ।সোহাগ বেশ মিশুক ,একেবারে আনকোরা মানুষজনের সাথে নির্বিবাদে আলাপ জুড়ে দিতেও সে বেশ পটু ছিল ।তো সেইদিন ,একথা সেকথার পর সে সহযাত্রী ভদ্রলোকের সাথে রীতিমত আলাপ ফেঁদে বসল।মজাটা হল ,বাস থেকে নামার পর ভদ্রলোক সোহাগকে বললেন ,তোমার বাড়ি তো চট্টগ্রাম ,তাইনা ?

পরে যখন সোহাগ আমাদের কাছে তার অননুকরণীয় টিপিক্যাল চাঁটগাইয়া অ্যাকসেন্টে বলল ,”দোস্ত ,লোকটা আমার কথা শুনে কেমনে বুঝল আমি চাঁটগাইয়া ”।আমরা আর কিছু বললামনা ,মুচকি মুচকি হাসতে লাগলাম ।

সোহাগ একটু সরল টাইপের ,তাই বাতচিত করার সময় কথার টান অতটা আমলে নিতনা ।কিন্তু আমাদের অনেককেই এই প্রচন্ড রকম সজাগ থাকা সত্তেও এই অ্যাকসেন্ট লুকোতে কাঠখড় পোড়াতে হয় ,অনেকে আবার একেবারেই পারেনা ।তা না হয় নাই পারল ,কিন্তু মাঝে মাঝে এসব হ্যাপাটা একটু বেশি রকমের হয়ে যায় ।আমাদের আরেক বন্ধুর কথায় ভয়াবহ আঞ্চলিক টান চলে আসে ।সে আবার খুবই সুদর্শন ,পোশাক আশাকেও বেশ ফিটফাট ,কিন্তু যেই মুখ খুললেই বাঝে যত বিপত্তি ।আমরা বলি ,সোহান কথা না বলার আগ পর্যন্ত আমাদের ক্লাসের সবচে স্মার্ট ছেলে ।আর আমাদের প্রথম প্রেসেন্টেশনের পর কথাটা একটু বদলে গিয়ে হল ,সোহান বাংলার চেয়ে ইংরেজি ঢের ভাল বলে ,আর সবচেয়ে ভাল বলে যখন সে কিছুই না বলে ।

তবে বোধকরি ,একঝাক মানুষের মধ্য থেকেও আমাদের চাঁটগাইয়াদের সনাক্ত করতে সনাক্ত করতে বেগ পেতে হয় সবচেয়ে কম ।একেবারে অথেনটিক টান তো আছেই ,তায় আবার প্রতি বাক্যের শেষে বাইডিফল্ট “যে” অনুসর্গ যুক্ত করায় আমরা বুঝে যেতাম ,এ ব্যাটা চাঁটগাইয়া নওজোয়ান ।তাই যতই তুমি ইংরেজিতে তুবড়ি ছোটাও না কেন ,কুট্টিদের মত “আবে চিপায় পড়লাম ” ডায়ালগ দিয়ে বর্ণচোরা সাজার চেষ্টা করনা কেন ,হুঁ হুঁ ,চাঁটগাইয়া হয়েছ তো মরেছ ,একেবারে চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায় তোমার সব কসরতই মাঠে মারাই যাবে ।

তবে একটু চোখকান খোলা রাখলেই কিন্তু অল্পবিস্তর টান অনেকের কথার মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায়।ব্যাপারটা এমন কোন গুরুতর বা দূষণীয় তো নয়ই –আমি অন্তত মনে করিনা ।আসলে এইসব মানুষের কথা থেকেই চিনে ফেলার ব্যাপারগুলো আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগে ।তবে মাঝে মাঝে এজন্য বড়সড় কেলোও হয়ে যেতে পারে ।একবার নতুন টিউশনিতে গেলাম ,আর গিয়েই গৃহকর্তার সাথে একথা সেকথার পর চট করে ধরে ফেললাম ওনারা চট্টগ্রামের ।(উনি আবার অতটা চৌকস ছিলেননা বোধহয় ,তাই আমার কথা শুনে কিছুই বুঝতে পারেননি Wink)। কিন্তু কোন কুক্ষণে যে হাসিমুখে বলেছিলাম আংকেল ,আপনার বাড়ি তো চট্টগ্রাম ,না ? অমনি শুনতে পেলাম ,”ওমা ,ছ ছাই খারবার ,তোয়ার ঘর খন্নান্দি” (দ্যাখ দেখি কান্ড ,তোমার বাড়ি কোথায়)? অথচ তখন পর্যন্ত আমি একবারও আমার বেত্তান্ত বলিনি ।তারপর পরিচয় দিতে ওসব বইঙ্গাদের(বৈদেশিদের ) ভাষা লাটে উঠে গেল ,এরপর থেকে আমাকে আমার আনাড়ি চাঁটগেয়ে এলেম নিয়েই পুরো সময়টা কাজ চালাতে হয়েছিল ।

তবে সত্যি কথাটাই বলি ,ক্লাস টেস্ট ,সেশনাল, অ্যাসানমেন্টের গ্যাড়াকলে যখন পেরেশান হয়ে পড়ি ,ইটপাথরের ঢাকার ঠাস বুনোটে মনটা যখন ভীষন রকম হাঁসফাঁস করতে থাকে ,নীলক্ষেতের জনাকীর্ণ রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে আমি যখন বাটালি হিলের ছায়াঘেরা রাস্তার ভাবালুতায় বিভোর থাকি ,তখন আচমকা শুনতে পাওয়া “ওয়া ,কেন আছ ,গম আছনি??” ,কথাগুলো শুনতে নেহায়েত মন্দ লাগেনা ।

Thursday, May 20, 2010

কবিতা -ফোবিয়া

বাঙ্গালী মাত্রই কবিতাপ্রিয় ,আর দশটা বাঙ্গালীর মত সেই শৈশবকাল থেকে কবিতার প্রতি আমারও এক দুনির্বার মোহ কাজ করত।কথাটিতে একটু ভুল হল,কবিতা কি জিনিস তা অনুধাবন করার মুরোদ তো সে সময় আমার ছিলনা,বরং বলা যায় সেই মোহ ছিল অনেকটাই ছন্দের প্রতি।আর সেই বালসুলভ আকাঙ্খার বর্শবর্তী হয়ে ছন্দ মেলানোর অন্ধ আক্রোশে লিখেও হয়তো ফেলেছিলাম খানকয়েক ছড়া।বলাই বাহুল্য ,সেই ছড়াতেই আমার দৌড় যে কদ্দুর তার আভাস ভালভাবেই মেলেছিলা।কিন্তু অবুঝ বয়েসের সাত খুনও মাপ,তাই কাঁচা হাতের সেই ছড়ারুপী ছন্দ মেলানোর আকুল প্রয়াস দেখেও মনে মনে যাই ভাবুননা কেন,মুখে বাবা মা মায় ক্লাসটিচার পর্যন্ত এই সুবোধ বালকটির পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন আর বলেছিলেন, লেগে থাক বাবা ,তোমাকে দিয়েই হবে (এটা অবশ্য হলফ করে বলতে পারছিনা,স্মৃতি যদি প্রতারণা না করে থাকে আর কি ! ) আমার তো এমনকি এও মনে হত,রবি ঠাকুরও তো এই বয়েসে "জল পড়ে পাতা নড়ে টাইপের " ছাইপাশ লিখেছিলেন,তার চেয়ে আমার কবিতা নিশ্চয় অনেকই উচ্চমার্গীয় ,কিন্তু হায় এই অর্বাচীনের যদি বোঝার সাধ্য থাকত,ওই জল পড়ার নড়ার মাঝে যে ভাব লুকিয়ে আছে, তা বোঝা এই অপোগন্ডের কম্মো নয় তাহলে ওই প্রজেক্টে বহু আগেই ইস্তফা দেওয়া হত।


যাই হোক, বয়েস অল্প,চোখে রঙ্গিন স্বপ্ন ,খানিকটা মতিভ্রম হয়তো হয়ে থাকবে,তাই কবিতা লেখার ভূত তখনো মাথা থেকে চাপেনি।একদিন হঠাৎ মনে হল ,আমার এইসব কবিতা তো পত্র পত্রিকা পেলে লুফে নেবে।তখনো বুঝিনি,আদতে সেই মতিভ্রম খানিকটা আতঙ্কজনক পর্যায়েই চলে গিয়েছিল,নইলে এমন সর্বনাশা চিন্তা মাথায় কিভাবে এল তা ভেবে আমি এখনও শিউরে উঠি।তারওপর ক্লাসে ছিলাম শেয়াল বনের রাজা,তাই এসব ভাবনার পালে হাওয়া পেতে খুব একটা দেরি হয়নি।তাই আমার বিপুল সাহিত্য সম্ভার থেকে বেছে বছে সবচে কম উচ্ছিষ্ট আবর্জনাটা বের করে একদিন পাঠিয়ে দিলাম এক স্বনামধন্য পত্রিকার শিশু বিভাগে ।যদিও আমি নিজের লেখা শিশু বিভাগে পাঠানোর পক্ষে খুব একটা রাজি ছিলাম না (নিজেকে বেশ লায়েক মনে করতাম কিনা !),তথাপি নিজের প্রতিভা বিকাশের জন্য এর চেয়ে ভাল কোন প্লাটফর্মের কথা আমার জানা ছিলনা !

অতঃপর শুরু হল প্রতীক্ষার প্রহর,সপ্তাহের একটি বিশেষ দিনে হকারের আসার পথে একবারে চাতক পাখির মত অপেক্ষা করে থাকতাম ।বলাই বাহুল্য,প্রায় প্রতি সপ্তাতেই আমি নিরাশ হতে থাকি ,আর আমার হতাশাও চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে যেতে থাকে ।প্রতিবার মনে হয় ,লেখাটা বোধহয় খানিকটা দেরিতেই পৌচেছে ,আর আশায় বুক বাধতে থাকি ।কিন্তু বিধিবাম,মানুষের সবুরে মেওয়া ফলে আর আমার বেলায় মিলল কেবল মাকাল ফল ।অনেক বিনিদ্র রজনী পার করার পর একদিন এই লেখার কথা আমার মন থেকে মুছে যেতে থাকে আর ওদিকে আমার কবিতার খাতায়ও ধুলোর স্তর পুরু থেকে পুরু হতে থাকে।


এরপর অনেক দিন কেটে গেছে । কবিতার প্রতি মোহ আমার ততদিনে কেটে গেছে ।নৈমিত্তিকতার গ্রাসে কবিতা লেখার ইচ্ছের সলতে তখন নিভু নিভু হয়ে গিয়েছিল । একদিন হঠাৎ পুরনো বই খাতার স্তুপে আবিষ্কার করলাম আমার সেই কবিতার বই ।মলাট বলতে তখন আর কিছু নেই ,কেবল গুটি গুটি হরফে লেখা কিছু কথা সাক্ষ্য দিচ্ছিল আমার এককালীন বিরলপ্রজ প্রতিভার ।খাতা হাতে নিয়ে আমি উল্টোতে থাকলাম,আর নিজের অবিনশ্বর কীর্তির দিকে তাকিয়ে আপনমনেই মুচকি হাসলাম।

মোদ্দা কথা হল , কবিতার সাথে গাঁটছাড়া বাঁধার খায়েশ ষোলআনাই ছিল ,সেই আশা পূরণের কোশেশও খুব একটা কম করিনি ,কিন্তু সবার শেষ কথা হল তাখতই যদি হয় কমজোর,তাহলে মোল্লা আর বড়জোর কদ্দুর দৌড়াবে। মেঘমেদুর দিনে মেঘের ঘনঘটা দেখে আমি পুলকিত হইনা, বরং শিউরে উঠি এই বুঝি জরুরি কাজটা পন্ড হল বলে, হঠাৎ আসা বর্ষণে আমি ভেজা মাটিতে সোঁদা গন্ধ খুজে পাইনা ,বেয়াড়া প্রকৃতির জন্য আজকের সকালটা মাটি হল, এই ভেবেই আমি গজগজ করতে থাকি ।পঞ্চমীর চাঁদ ডুবে গেলেও আমার মাথায় একরত্তি কাব্য আসেনা । আর মানুষ হিসেবে আমার রোমান্টিকতা তো দিল্লী দূর অস্ত ।সে আলাপ এখানে করা অনেকটা কাকস্য পরিবেদনার মতই শোনাবে ,তাই ওদিকে আর গেলামনা । বাশ বনে ঝড় বাতাস দেখে আমি কস্মিনকালেও প্রিয়ার এলোকেশ বলে ভাবিনা , বনলতা সেনের সন্ধানে নাটোর যাওয়ার ইচ্ছেও কখনো উকি দেয়নি ,মোটকথা ওসব কল্পনাবিলাস আমার ধাতে সয়না ।কবিতা পড়ে হদয়ঙ্গম করতে তাই আজকাল আমাকে জেরবার হতে হয় , নিজেকে সান্তনা দিই এই বলে যে এ যে আমার সক্ষমতারই অপ্রতুলতা। ভয় হয় ,কবিতার সাথে এই আপাত বিচ্ছেদের বোঝা আবার আমায় বেশিদিন বইতে না হয় ,কবিতার প্রতি আমার না আবার অ্যালার্জি পেয়ে বসে ।ডুবন্ত মানুষও খড়কুটো আঁকড়ে ধরে রাখে ,আমিও তাই আর হাপিত্যেশ না করে বরং আশায় আছি ,একদিন কবিতার দেবী হয়তো আমার দিকে মুখ তুলে তাকাবেন ,কবিতার সাথে আমার ফের মিতালী হবে ।

ঢাকার প্রেম

  ‘আমরা তিনজন একসঙ্গে তার প্রেমে পড়েছিলাম : আমি , অসিত আর হিতাংশু ; ঢাকায় পুরানা পল্টনে , উনিশ-শো সাতাশে। সেই ঢাকা , সেই পুরানা পল্টন , সেই ...