Wednesday, August 19, 2015

রঙিন পর্দার গল্প

বনফুলের পাঠকের মৃত্যু নামে একটা ছোটগল্প আছে। কখনও কখনও মনে হয়, উল্টোটাও তো হতে পারে। ধরুন, যে বইটা অলস ফেলে রেখেছিলেন ঘরের এক কোণায়, এক পরত ধূলো জমেছিল যেটির ওপর, সেই বইটাই হয়তো আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বুঁদ করে রাখল। পেইন্টেড ভেইল ছবিটা দেখে মনে হলো, আমার ক্ষেত্রেও যেন সেটা হলো। একসময় যে ছবিটা শুধুই সিনেমাটোগ্রাফির জন্য ভালো লেগেছিল, সেটা আরেকবার দেখে মনে হলো, আসলে ছবিটার মর্ম তখন কিছুই ধরতে পারিনি। সেটার জন্য অনুভূতির তারগুলোও অবশ্য একটু চড়া সুরে বাঁধতে পারা চাই।

একদিক দিয়ে দেখলে ছবিতে আবেগের কিঞ্চিত বাড়াবাড়ি, সোজা বাংলায় যেটাকে বলা হয় মেলোড্রামাটিক, তার কমতি নেই। স্বৈরিণী স্ত্রীর স্বামীর সঙ্গে একরকম বনবাসে যাওয়া বাধ্য হয়েই, পরে আবার সেই স্বামীর বুকেই তার অশ্রু সমর্পণ। এটুকু হয়তো আদি ও অকৃত্রিম উপমহাদেশীয় অনেক ছবির কথাই মনে করিয়ে দেবে। কিন্তু যে প্রেক্ষাপটে বিরহ মধুরাতে মধুর হলো, সেটা না বুঝলে, আসলে ছবিটা দেখার স্বাদ ষোলআনা পাওয়া যাবে না।

বাবা-মাকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য কিটি দুম করে তরুণ ডাক্তার ওয়াল্টারকে বিয়ে করে পাড়ি জমায় চীনে। কাঠখোট্টা স্বামী কখনোই কিটির মন বুঝতে পারেনি (উল্টদিকেও তাই)। খুব শিগগিরই সাংহাইতে বিবাহ-বহির্ভূত প্রণয়ে জড়িয়ে পড়ে কিটি। ওয়াল্টার সেটা টের পেয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে একজন মহৎহৃদয় স্বামীর কর্তব্যও সে পালন করে, স্ত্রীকে সুযোগ দেয় প্রেমিকের কাছে ছুটে যাওয়ার। কিন্তু কিটি মানুষ বুঝতে ভুল করেছিল, মোহটা খুব তাড়াতাড়িই কেটে যায়। ভগ্নমনোরথ হয়ে তাকে যেতে হয় স্বামীর সঙ্গে চীনের দুর্গম এক এলাকায়। সেখানে কলেরার প্রকোপে মানুষ মরছে দল বেঁধে। ওয়াল্টার অবশ্য জীবন বাঁচাতেই ব্যস্ত। স্ত্রীকে দূরে ঠেলে দিয়েছে আগেই, দুজনের সম্পর্কটাও নেহাতই আনুষ্ঠানিকতার। স্বামী-স্ত্রী এক ছাদের (আক্ষরিক অর্থে ধরে নিলে ভুল করবেন।) নিচে থেকেও তাদের মধ্যে দুস্তর পারাবার। কিটি সেটা কমিয়ে আনতে চাইলেও ওয়াল্টার অটল নিজের প্রতিজ্ঞায়। এরপর কীভাবে সেই দূরত্ব ঘুচল, এক দোঁহে মিলে গেল দুইটি প্রাণ সেটা পরের গল্প।



এর মধ্যে স্থানীয় একটা কনভেন্টে কিটি জড়িয়ে পড়ে শিশুদের সান্নিধ্যে। জীবনের নতুন মানে সে খুঁজে পায়, স্বামীকেও আবিষ্কার করে নতুনভাবে। স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক কিটির নতুন একটা রূপও খুঁজে পায় ওয়াল্টারের সামনে। বাকিটা গল্পটা তোলা থাক।

যেটা বলছিলাম, ওয়াল্টারের চরিত্রে নর্টন ছিলেন তাঁর মতোই দুর্দান্ত। তবে নতুন করে দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি নাওমি ওয়াটসে। একজন নারীর নিজের সাথে সংঘাত, বারবার আঘাত পাওয়া, হৃদয় দীর্ণ হওয়া- পশ্চিমা একজন অভিনেত্রীর জন্য খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। নাওমি বোধহয় নিজের সেরা চেষ্টাটাই করেছেন। আর সিনেমাটোগ্রাফির কথা তো না বললেই নয়। চীনের অবারিত মাঠ, শান্ত সমাহিত সৌন্দর্য আমাদের চিরচেনা গ্রামগুলোর কথাই মনে করিয়ে দেবে।

ছবিটা দেখে হয়ত মনে করতে পারেন, আবেগের বাড়াবাড়িটা একটু বেশিই, ক্লাইম্যাক্স হয়তো অতি-নাটকীয়তা দোষে দুষ্ট। কিন্তু রোমান্টিক ম্যুভির আদলে যে ছবিটা আসলে মানবতার কথাই বলে, সেটা একটু সময় দেখলে বোধহয় ক্ষতি হবে না।


Sunday, August 9, 2015

আমার দুঃখভারাক্রান্ত রাতের কথা

 (মূলঃ পাবলো নেরুদা )


আজ আমি সবচেয়ে দুঃখভারাক্রান্ত শব্দগুলো লিখতে পারি
 যেমন ধরুন, রাতটা যেন ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাচ্ছে 
দূরের ওই নীল তারাগুলো কেমন যেন কাঁপছে 
রাতের বাতাস যেন মিশে যাচ্ছে আকাশে আর সুরে


 আজ আমি সবচেয়ে দুঃখভারাক্রান্ত শব্দগুলো লিখতে পারি
 আমি তাকে ভালোবেসেছিলাম, কখনও কখনও সে-ও আমাকে
 এরকম কোনো রাতেই আমি ওকে বাহুডোরে বেঁধেছিলাম
 এই অনন্ত আকাশের নিচে আমি চুমু খেয়েছিলাম ও
কে সে কখনও কখনও আমাকে ভালোবেসেছিল, আমিও তাকে 
এমন চোখ যার আছে, তাকে কী ভালো না বেসে পারা যায় ? 


আজ আমি সবচেয়ে বেদনার কথাগুলো বলতে পারি 
ভাবতে পারি ও আর আমার নয়, আমি যেন ওকে হারিয়ে ফেলেছি 
নিঃসীম রাতের শব্দ শুনতে পারি, ওকে ছাড়া আরও নিঃসীম, আরও প্রগাঢ়
 যেমন করে চারণভূমিতে মিশে থাকে শিশির, এইসব পংক্তিগুলোও যেন তেমনি মিশে আছে সত্ত্বার সাথে 
আমার ভালোবাসা ওকে ধরে রাখতে পারেনি, এতে কি আদৌ কি যায়-আসে ? 

রাতটা দীর্ণ হয়ে গেছে, আর সে আমার পাশে নেই
 এই তো, দূরে মনে হচ্ছে কেউ গান গাইছে, অনেক দূরে
 আমার কেবলি মনে পড়ছে আমি ওকে হারিয়ে ফেলেছি 
আমি তাকে খুঁজে ফিরছি, ওর কাছে যেতে চাইছি 

আমার হৃদয় ওকে চাইছে, কিন্তু ও আমার পাশে নেই 
এই রাতটাই তো, সেই একই গাছগুলোকে ঢেকে দিচ্ছে শুভ্রতায়
 সেই আমরা আজ অনেক বদলে গেছি আমি
 আমি আর তাকে ভালোবাসি না, এটা নিশ্চিত।
 কিন্তু একসময় তো বাসতাম আমার কথা ইথারে ভেসে ওকে ছুঁয়ে যেতে চাইত
 তার ঠোঁট এখন অন্য কেউ ছোঁবে তার শুন্যতা, উজ্জ্বল শরীর, অতলান্ত চোখ
 আমি তাকে আর ভালোবাসি না, সেটা নিশ্চিত 
কে জানে হয়তো বাসতেও পারি 
ভালোবাসা কঠিন, ভুলে যাওয়াটাই সহজ

 এমন রাতগুলোতেই আমি ওকে বাহুডোরে বেঁধেছিলাম 
আমার হৃদয় ওকে না পেয়ে অতৃপ্ত
 এই আমাকে দেওয়া ওর শেষ ব্যথা 
এসবই ওর জন্য লেখা আমার শেষ চরণ

Thursday, February 5, 2015

ইতিকথার পরের কথা...

মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে করে, শশী ডাক্তার এখন কেমন আছে? ওই যে গাওদিয়ার হাসপাতালটা, ওখানে কি এখনও সে শশব্যস্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। এক মাথা উঁচু ঢিবিটার ওপর থেকে সে এখনও সূর্য দেখে ? তালবনের শনশনানি শুনে সে এখনও কেঁপে কেঁপে ওঠে ? এখনও সে কি অপেক্ষা করে, কোনো কুহকিনী এসে হাত ভাঙার নাম করে তার সঙ্গে কথা বলবে ?

সেনদিদির ছেলেটা এখন কেমন আছে ? নিশ্চয়ই এতোদিনে সে বেশ বড়সড় হয়ে উঠেছে? মায়ের রূপের কতখানি সে পেয়েছে? কাশীতে গিয়ে গোপালের খুব বেশিদিন বেঁচে থাকার কথা নয়। গঙ্গা নদীর স্রোতে হয়তো তার ছাইভস্মও ভেসে গেছে। শশী কি সেই খবরটা জানে ? সেনদিদির ছেলেও কি জানে, হাজার মাইল দূরে একজন তার জন্য কতটা অপত্যস্নেহ নিয়ে বেঁচে আছে ?

কুসুম, সেই বা কেমন আছে ? আগের সেই বাঁকা হাসির চকিত চাহনি কি খেলা করে তার মুখে ? বাজিতপুরে নিশ্চয়ই ঘরকন্না করছে, এখনও গাওদিয়ার সেই দিনগুলোর কথা ছলকে ওঠে না স্মৃতিতে? যার জন্য একদিন নিজের সবটুকুই দিতে পারত, তাকে অমন করে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য একটুও কি আক্ষেপ হয় না ? আচ্ছা, বাজিতপুরে কি তালবন আছে? সন্ধ্যার অস্তরাগে কুসুম কি ওখানে গিয়ে নিশ্চুপ বসে থাকে ?

কুমুদ আর মতিই বা কেমন আছে ? এখনও কি দুজন জলে ভাসা পদ্মের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে ? কুমুদের যাত্রা দেখে কি মতির শরীরে আগের মতো পুলক খেলে যায় ? নাকি বেলা শেষে দুজন এখন থিতু হয়েছে, জীবনের বিপুল বিস্তারে দুজন কি সব উদ্দামতাকে সমর্পণ করেছে ? কুমুদ কি এখনও মতিকে দিয়ে পা টেপায় ? আর মতি, কুমুদ কি তার খোলনলচে বদলে দিতে পেরেছে ?

মাঝে মাঝে কিছু প্রশ্নের খুঁজতে বড্ড ইচ্ছা করে।



Sunday, November 23, 2014

এইসব ভাবালুতা

দুপুর সঙ্গে করে নিয়ে আসে আরেক দুপুর
অলস চড়ুই বসে বসে মানুষ গোণে
এক, দুই, তিন...
সঞ্চরণশীল মেঘমালা বাজিয়ে চলে বেদনার বিউগল
কানাগলিতে দীর্ঘতর আমার ছায়া
ধীরে ধীরে গ্রাস করতে থাকে
বেদুইন বাতাসে এলোমেলো কার্নিশ, উদ্ভিন্নযৌবনা রোদ
নিঃসঙ্গতা যেন অপূর্ব এক বিভ্রম
চড়ুইও সঙ্গী খুঁজে পায়, কানাগলিতেও নামে সন্ধ্যা
আমার জন্য শুধু আছে মদির রাত

Sunday, July 6, 2014

জোগো বনিতো কি শুধুই একটা মিথ ?

সুন্দর ফুটবলটা বস্তুটা আসলে কী? এটা কী সোনার পাথরবাটি , তিব্বতের ইয়েতি নাকি পুরাণের ইউনিকর্ন ? আরও সহজ করে বলি, এটা খায় না মাথায় দেয় ? ব্রাজিলের ফুটবলার দিদি ও স্টুয়ার্ট হলনামের একজন টিভি উপস্থাপকের মাথা থেকে প্রথম "জোগো বনিতো" শব্দ দুইটিবেরিয়েছিল। এরপর আমাজন, লাপ্লাটায় কত জল গড়িয়েছে, জোগো বনিতো শব্দ দুইটি এখন হয়ে গেছে ফুটবল পুরাণের অংশ। ব্রাজিলের সাম্বা ফুটবলের জন্যই এটা বেশি খাটে, কিন্তু কোনো দল সেরকম চোখধাঁধানো ফুটবল খেললেই তাদের নামের সঙ্গে সেঁটে দেওয়া হয়েছে। "আহা, কী ফুটবল, দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল" - যুগে যুগে জোগো বনিতো দেখে উচ্ছ্বাসে ভেসে গেছেন আমাদের বাবা, তাঁর বাবা, তাঁর বাবা... । আচ্ছা, এতক্ষণ তো ভাবার সুযোগ পেলেন । আগের কথায় ফিরে আসি, সুন্দর ফুটবলের সংজ্ঞাটা কী ?

সোজাসাপ্টা উত্তরটা দিলে এরকম দেওয়া যায়, " যাহা দেখিতে ভালো লাগে তাহাই সুন্দর ফুটবল"। কিন্তু এটা তো খুবই ভাসাভাসা কথা হলো। চোখের দেখায় তো কত কিছুই ভালো লাগে। যার গোলাপ ভালো লাগে তার রজনীগন্ধা ভালো নাও লাগতে পারে। আবার এমা ওয়াটসনকে স্বপ্নে দেখলে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টকেই বা দেখা যাবে না কেন? কিন্তু সুন্দর ফুটবল কি শুধুই মনোমুগ্ধকর পাসের প্রদর্শনী ? সুন্দর ফুটবল মানেই কি ছোট ছোট পাসে ছড়িয়ে থাকা নান্দনিকতার ক্যানভাস ? জমাট রক্ষণ, বলের জন্য হাড্ডহাড্ডি লড়াই, গোললাইন থেকে ডিফেন্ডারের ক্লিয়ারেন্স, গোলকীপারের উড়ে গিয়ে দুর্দান্ত সব সেভ- এগুলো কি শুধু ছ্যা ছ্যা করার জিনিস ? এর মধ্যে কি কোনো সৌন্দর্য নেই ?

ব্যাপারটা আসলে আপেক্ষিক। জোগো বনিতোর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে মোটা দাগে সবাই একটা দলের কথাই বলেন। ১৯৭০ সালের পেলে, জেয়ারজিনহো,টোস্টাও, কার্লোস আলবার্তোদের ব্রাজিলকে সর্বকালের অন্যতম সেরা দলই বলা হয়। সেই দল আদতে চার ডিফেন্ডার নিয়ে খেললেও কার্লোস আলবার্তো ও এমারেলদো কিন্তু মোটামুটি উইংব্যাকই ছিলেন। রক্ষণটা তাই কমবেশি অরক্ষিতই থাকত। এক গোল খেলে দুই গোল দেব-মোটামুটি এই মন্ত্র জপেই মাঠে নামত ব্রাজিল। সেজন্যই ছয় ম্যাচে সাত গোল খেয়েও ব্রাজিল ১৯ গোল দিতে পেরেছিল।

অথচ এখনকার কথাটা একবার চিন্তা করুন। নেইমার, অস্কারদের ব্রাজিলের কথাই ধরুন, বা মেসি-আগুয়েরোর আর্জেন্টিনা, এই সময়ে এসে অত গোল দেওয়ার কল্পনা করাটাও বাতুলতা। আর্জেন্টিনার উদাহরণটাই একটু খোলাসা করি। মেসি, হিগুয়েইন,ডি মারিয়া, আগুয়েরো- তাদের আক্রমণকে বিশ্বের সেরা হিসেবে রায় দিয়ে দেওয়া যায়। সেই আক্রমণ নিয়ে এখন আর্জেন্টিনা কতটি গোল করেছে? আঙুল গুনেই বলে দিতে পারেন, আটটি। অথচ যে রক্ষণ নিয়ে এত কথা হচ্ছিল, তারাই কিন্তু দুর্দান্ত করছে। কে জানে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে হলে সামনের দুই ম্যাচে হয়তো কোনো গোলই আর দিতে হবে না তাদের। স্পেন কিন্তু গতবার আট গোল করেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। 
তুলনামূলকভাবে ব্রাজিলের রেকর্ডটা বেশি উজ্জ্বল, দশটি গোল করেছে। কিন্তু কেউ মনে হয় তর্ক করবেন না ব্রাজিলের জন্য ফ্রেড, অস্কাররা যতটা, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এখন লুইজ, থিয়াগো সিলভারা। কে জানে, আর কোনো গোল না খেয়েই হয়তো ব্রাজিল হয়তো চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে!

"ইনভার্টিং দ্য পিরামিড" বইতে জোনাথন উইলসন ফর্মেশনের বিবর্তন দারুণভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। একসময় যখন এগার জনের দলে মাত্র একজন ডিফেন্ডার ছিল, সেখান থেকে সংখ্যাটা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত চারে। শুধু এভাবে বললে আসলে পুরো চিত্রটা পরিষ্কার হয় না। আক্রমণের পাশাপাশি এখন রক্ষণে সাহায্য না করলে দলে আপনি কল্কে পাবেন না। ফুটবলীয় ভাষায় ট্র্যাকব্যাক না করলে কোচ আপনাকে ছুঁড়ে মারতে কিছু মাত্র কসুর করবেন না। আজকের যুগে তাই আক্রমণে যতজনই থাকুক, রক্ষণে কিন্তু এগারজনকেই সাহায্য করতে হয়!

২০১২ সালে চেলসির চ্যাম্পিয়নস লিগ রূপকথার পর ইয়োহান ক্রুইফ বলেছিলেন, "এভাবে খেলে জেতার চেয়ে বরং হারা ভালো।" ব্যাপারটা কি আসলেই এতো সরল ? চেলসি যেভাবে জিতেছে সেটা চোখের জন্য দৃষ্টিসুখকর বলার উপায় নেই। কিন্তু তাদের জয়কে কি এতো সহজে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায় ? ২০০৪ ইউরোতে গ্রিসের সেই অবিশ্বাস্য জয়েরপর তো তাদেরকে কম সমালোচনা সইতে হয়নি। সেট পিস থেকে হেড করে গোল- অটো রেহাগেলের রেসিপি ছিল ধরাবাঁধা। কিন্তু সীমিত সামর্থ্য নিয়েও ট্যাকটিকসটা দারুণভাবে প্রয়োগ করে দেখানোর জন্য তাঁর কি কোনো প্রশংসা প্রাপ্য নয় ? টেলে সান্তানার ব্রাজিল সৌন্দর্যের সাথে কোনো আপস করেনি ঠিক। ১৯৮২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেই হার এখনও ট্র্যাজেডি হয়ে আছে। কিন্তু দিন শেষে রেকর্ডবুকের পাতা কিন্তু রেহাগেলকেই মনে রাখবে, সান্তানাকে নয়।

সান্তানার কথা যখন উঠলই,ব্রাজিলের ব্যাপারটা একটু খতিয়ে দেখা যাক। এরপর আরও দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল, কিন্তু ঠিক মন ভরানোর মতো খেলা কি কোনোবার খেলতে পেরেছে ? ২০০২ সালে স্কলারি যে কৌশলে জিতিয়েছিলেন,এখন তো সেটা থেকে একটু হলেও সরে আসতে হয়েছে তাঁকে। এই ব্রাজিল যতটা না নেইমারের, ততটাই কিন্তু সিলভা-লুইজদের। শুধু ব্রাজিল কেন, আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে।  আর্জেন্টিনার মূল ভরসা ছিল মেসি-ডি মারিয়া-আগুয়েরো- হিগুয়েইন চতুষ্টয়। বিশ্বকাপ জিতলে সবাই মেসির নামই আগেব বলবে, কিন্তু তাতে কি গ্যারাই-রোহো-দেমিচেলিস-জাবালেতাদের কৃতিত্ব এতটুকু কমে যাবে ? ২৪ বছরের মধ্যে যেটা করতে পারেনি, এবার তো দুর্দান্ত রক্ষণের জন্যই সেটা করতে পারল। অথচ আগের কয়েকবারের তুলনায় এই আর্জেন্টিনার খেলা মোটেই দৃষ্টিসুখকর কিছু নয়। তবে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে কিন্তু এভাবে খেলেই হবে। যে হল্যান্ডকে কেউ গোনায় ধরেনি, তারা এখন শিরোপার স্বপ্ন দেখছে কীভাবে? লুইস ফন গাল সীমিত সামর্থ্য নিয়েও দলকে যেভাবে ট্যাকটিক্যালি সাজিয়েছেন, সেটা যতটা না "সুন্দর ফুটবল", তার চেয়েও অনেক বেশি "কার্যকর ফুটবল"  । একই কথা প্রযোজ্য জার্মানির ক্ষেত্রেও।  "আমরা সুন্দর ফুটবলের সঙ্গে আপস করি না"- এখন বোধহয় কোনো দলই বুকে হাত দিয়ে এই কথা বলতে পারবে না।

এখনতাই "জোগো বনিতোর" নয়, "জোগো এফিকাজ" বা কার্যকরী ফুটবলের যুগ।

Sunday, November 3, 2013

ক্রিকেটের সাথে বেড়ে ওঠা

তখন আমার ছিল হাফপ্যান্ট পরার বয়স। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অ্যাকশন প্র্যাকটিস করতাম, হ্যাঁ, ঠিক এভাবে বলটা ছুঁড়তে হবে! আমাদের দুকামরার ঘরে একরত্তি জায়গাটা চ্ছিল আমার রানআপের জন্য বরাদ্দ। দিনমান কেটে যেত এভাবে। বিকেলে সামনের উঠোনে নাম বেটে খেলা। খুব জোরে বল করা যাবে না, বলটা যে হারিয়ে যাবে! আরেকটা বল, ওরে বাবা, পাক্কা ১৫ টাকা দাম। কে দেবে অত টাকা? 

তখন টিভি বলতে চিনতাম শুধু বিটিভি। ঈদের সময় আনন্দমেলা, শুক্রবার সকালে মনের মুকুরে, দুপুরে পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি। তখন বাসায় রাখতাম ভোরের কাগজ।  বুঁদ হয়ে পড়তাম টেন্ডুলকার, লারাদের জাদুকরী সব ইনিংসের কথা। ওই যে, সাদাকালো ছবিতে বযাট উঁচিয়ে আছে টেন্ডুলকার! হাতটা ব্যাট বানিয়ে শ্যাডো করতে করতে ভাবতাম, একদিন আমিও...

এমন সময় পড়লাম মালয়েশিয়ায় কিলাত ক্লাব মাঠে আইসিসি ট্রফি হচ্ছে। সেটাতে ফাইনালে উঠলে নাকি বিশ্বকাপে খেলবে। বিশ্বকাপ! তখনো মাত্র জয়াসুরিয়া, কালুভিতারানাদের স্মৃতি চোখে লেগে আছে। সে কি ধুন্দুমার মার!সেই টেন্ডুলকার স্টামড হিয়ে গেল জয়াসুরিয়ার বলে।  আর রিচি রিচার্ডসনের শট তো আম্পায়ারের কানটাই ফাটিয়ে দিয়েছিল। সেই বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ!

পেপারে-টেপারে কী লিখেছিল এখন আর অতশত মন নেই। হঠাৎ একদিন ছোটমামা এসে পড়ল, বাংলাদেশ হল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে। এই ম্যাচটা জিতলেই নাকি বিশ্বকাপ। আমার ছোট্ট মনের বিশ্বকাপের আকাশ ছোঁয়ার বয়স তখনো হয়নি।

এমন সময় একদিন হঠাৎ ছুটি হয়ে গেল স্কুল। বিজ্ঞান টিচার এসে বললেন, বাংলাদেশ স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে। তার মানে বিশ্বকাপ! আকরাম, বুলবুলদের নামটাম তখন শুনেছিলাম শুধু। আর  একটু একটু পড়েছিলাম পেপারে। বিশ্বকাপে ওঠার আনন্দে আমরা একটা আস্ত টেনিস বল কিনে ফেলি। কোত্থেকে যেন স্কুলে একটা ব্যাটও জোগাড় হয়ে যায়। সেদিন আর আমরা কেউ লারা-টেন্ডুলকার নই, সবাই আকরাম, বুলবুল, নান্নু।

ফাইনাল কেনিয়ার সাথে। সকালে ছোটমামা এসে বলল,চল রেডিওতে খেলা শুনবি। মামাবাড়ির ট্রানজিস্টরটা ছিল মস্ত। সেখান থেকে গমগম করে কার যেন ধারাভাষ্য শোনা যাচ্ছিল। বুঝতে পারছিলাম, কেনিয়ার ওদুম্বে-টিকোলো নামের দুইজন বেদম পিটুনি দিচ্ছে। আমাদের সবার একটু মন খারাপ হলো। আইসিসি ট্রফিটা কি আমাদের আর জেতা হবে না ?

পরদিন শুনি বৃষ্টির জন্য খেলা আবার শুরু হয়েছে। আবার রেডিওতে কান লাগিয়ে উৎকর্ন হয়ে অপেক্ষা। এবার টার্গেট ছোট, ওভারও অবশ্য কম। কিন্তু সেদিনটা আসলে আমাদেরই ছিল। একেকটা চার হয়, আর আমরা উল্লাসে ফেটে পড়িতে থাকি। শুরুর দিকে এসে আম্মু মুখ ঝামটা দিয়ে যাচ্ছিলেন, ক্রিকেট ক্রিকেট করে ছেলেপেলে সব বরবাদ হয়ে গেল। একটু পর দেখি, আম্মা নিজেই এসে বলছেন, ভলিউমটা বাড়িয়ে দে, রান্না করতে করতে শুনব। আমরা অপেক্ষা করতে থাকি।

খেলা তখন শেষের দিকে। ধারাভাষ্যকার বারবার বলছেন, ম্যাচে টানটান উত্তেজনা। হঠাৎ চিৎকার, ছক্কা! পাইলট নাকি বল সীমানার ওপারে পাঠিয়ে দিয়েছে। আনন্দ, রোমাঞ্চের অদ্ভুত এক অনুভূতিতে আমি কাঁপতে থাকি। চলে আসে শেষ বল। এক বলে তখন দরকার এক রান। আমরা সবাই থরোথরো করে কাঁপছি। সবার শুধু দেহটা দেশে, মন ওই কিলাত ক্লাবে। জিতে গেছি, হঠাৎ চিৎকার করে ওঠেন ছোটমামা। আমার একন জানি বিশ্বাস হতে চায় না! যাহ, আমরা টুর্নামেন্ট জিতে গেছি ? আসলেই ? কে যেন একটু পর এসে আমাকে রঙ মাখিয়ে দেয়। জীবনে সেই প্রথমবার রঙ লাগে গায়ে। ক্রিকেট এরপর অবশ্য আরও অনেকবার আমাদের মনে রঙ লাগিয়েছে বটে।

সেই শুরু। এরপর আরও কতোশতো স্মৃতি। বলতে গেলে মহাভারত হয়ে যাবে। বিশ্বকাপের আগে সে কী প্রতীক্ষা। সারাদিন বসে থাকতাম, কখন বিটিভিতে গুডলাক বাংলাদেশ গনিটা দেখাবে। “পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমার ঢেউ বিশ্ব দেখুক... যাত্রা শুভ হোক”... হুনহুন করে গাইতে গাইতে কী যে দারুণ একটা অনুভূতি হতো। তখন আরেকটু সেয়ানা হয়েছি, ক্রিকেটের অন্ধিসন্ধির খবর জানতে শুরু করেছি।

চলে আসল বিশ্বকাপ। একেকটা রানও তখন আমাদের কাছে কত মহার্ঘ্য ! মাঝে মাঝে আবার নান্নুর ব্যাটের কানায় লেগে চার হয়ে যায়। সেসব অবশ্য আমরা টিভিতেই দেখতে পাচ্ছিলাম। ওই যে রক্তমাংসের শান্ত, পাইলট। এর মধ্যেই আবার হারিয়ে দিল স্কটল্যান্ডকে। এরপর পাকিস্তানকেও হারানো, উরেব্বাস! মনে আছে আব্বার বন্ধুরা মিলে একটা মেজবানের আয়োজন করেছিলেন সেই উপলক্ষে।
দুঃখও কী কম দিয়েছে ? ঈদের আগের দিন, আয়েশ করে গ্রামের বাড়িতে বসে আছি জয় দেখব বলে। ওমা, কোথাকার কোন কানাডা এসে হারিয়ে দিয়ে গেল। সেবারের মতো ম্যাদামারা, পানসে ঈদ আজ অবধি কাটাইনি। পুরো ঈদটাই যেন মাটি হয়ে গিয়েছিল।

কান্না ? সেটাও দিয়েছে। এশিয়া কাপের সেই ফাইনালের কথা কি সারাজীবনেও ভোলা যাবে? মাঠে কাঁদছিল মুশফিক, সাকিবরা, আর তাদের সাথে কাঁদছিল পুরো দেশ। 

স্বপ্ন যেখানে দেখার সুযোগ, সেখানে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা থাকবেই। আনন্দের সাথে গলাগলি করে থাকবে বেদনারা। প্রাপ্তির সাথে থাকবে হতাশা, বঞ্চনা। ক্রিকেট ছাড়া এতসব অনুভূতির সাথে আমাদের আর একাত্ম করেছে কে?  ভাবতে অবাক লাগে, এক সময় একটা জয়ের অপেক্ষায় আমরা বসে থাকতাম দিনের পর দিন, এখন সেই জয় কতো অনাআয়সেই না আসে। ভাবা যায়, একসময় টানা পাঁচ বছর আমরা একটা ম্যাচও জিতিনি! একসময় একটা জয় পেলে টিএসসি ছুটে যেত সবাই, এখন সিরিজ জিতলেও তেমন কোনো উৎসব হয় না। কে জানে , পরেরবার হয়তো বিশ্বকাপ পেলেই...

আমাদের প্রজন্মটা অনেক কারণে ভাগ্যবান। আমরা টেন্ডুলকার লারাদের স্বর্ণযুগ দেখেছি, দেখেছি ম্যাকগ্রা, আকরাম, ওয়ার্ন, মুরালিদের। কিন্তু ব্যাঘ্রশাবকদের যে বেড়ে ওঠাটা চোখের সামনের দেখেছি, সেটাকেই আমি এই প্রজন্মের পরম পাওয়া বলে মেনে নেব।

দিনশেষে ক্রিকেটেই তো আমরা দুদন্ড শান্তি খুঁজি !

Saturday, August 31, 2013

হুদাই ১ (জীবনে ফেরা)

১।
দুপাশে সাঁই সাঁই করে গাছেরা সরে যাচ্ছে। মাতাল হাওয়ায় উড়ছে চুল, দুধারে নীল পাহাড়ের হাতছানি। একবার তাকালে আর চোখ সরানো যায় না। সামনেই বাঁক, জোরে হাঁক দিয়ে উঠলাম- মামা, আস্তে...
ড্রাইভার সে কথা শুনলে তো! দারুণ দক্ষতায় গতি খুব একটা না কমিয়েই বাঁক কাটিয়ে যায়। আমি কান গুজে দেই হেডফোনে। চারপাশে বন্ধুদের সোল্লাস চিৎঅকার, গাড়ির টায়ারের কর্কশ শব্দ, বাতাসের হিসহিস ধ্বনি... সবকিছু থেকে চট করে আলাদা হয়ে যাই। ডুব মারি অতল জলের স্পন্দনে।
হোয়ার ওয়ার ইউ, হোয়েন আই ওয়াজ বার্নড অ্যান্ড ব্রোকেন। হোয়াইল দ্য ডে সিজড বাই ফ্রম মাই উইনডো ওয়াচিং...
এটুকু শুনেই চোখ মুদে ফেলি। আহ! কী অসাধারণ একটা গান। স্বর্গে গেলে কী এমন গান শোনা যাবে? 

২
গান বস্তুটা যথেষ্ট গোলমেলে। কখন কোন গান আপনার ভাল লাগবে সেটা বলা ভারি মুশকিল। হঠাৎ করে রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন, বহুদিন পরে পরিচিত একটা গানের কলি শুনে মন হয়ে উঠেছে স্মৃতিমেদুর- এমন অনুভূতি প্রায় সবার কখনো না কখনো হয়েছে সেটা হলফ করেই বলা যায়। সুর তো আমাদের সবার রক্তেই, কারো কারো সেটা বের হয় গলা দিয়ে, আর বাকিদের মনের স্বরতন্ত্রীতে সেটা গুঞ্জরিত হতে থাকে অহর্নিশ।
আমি দ্বিতীয় দলে পড়ি। গানের ব্যাপারে আমি সর্বভূক,কোনো ধরনের গানেই আমার অরুচি নেই। প্রিয় গানের নাম বলতে বললে আমি তাই চট করে কিছু বলতে পারব না। কারণ, একেকটা গান আমার কাছে স্মৃতির প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেওয়ার মতো, কোন গানের সাথে কোনটা জড়িয়ে আছে বলা কঠিন। আমি সময় মনে রাখি সুরকে দিয়ে, স্মৃতি হাতড়াই গানের বাণীতে। সেজন্য প্রিয় গান মানে আমার কাছে নিভৃত স্মৃতিচারণের অনুভূতি।

৩
বলছিলাম পিঙ্ক ফ্লয়েডের কথা। তখনো ক্লাসিক রকের সাথে ওভাবে সখ্য গড়ে ওঠেনি। ফিরিঙ্গি গান বলতে বেশির ভাগ শোনা হত ধাতবসংগীত। তাও বন্ধুবান্ধবের পাল্লায় পড়ে। আমার নিজের ধাত সবসময় ধীরলয়ের দিকে। সেটার দৌড় তখনো বাংলাতেই ছিল। ক্লাসিক রকের অসাধারণ জগতটা আমার কাছে থেকে গিয়েছিল অনালোকিত।
ঠিক সেসময় আমার জগতটাকে লন্ডভন্ড করে দিল পিঙ্ক ফ্লয়েড। এক বন্ধুর পরামর্শে শুনলাম কামিং ব্যাক টু লাইফ। প্রথম দেখাতেই প্রেমের অনুভূতি কী সেটা আমি জানি না, কিন্তু প্রথম শোনাতেই প্রেমের অনুভূতিটা আমি ভালোমতই জানি। এই গানটাই আমাকে শিখিয়েছিল সেটা ।

৪
কাকতালীয়ভাবে এই গানটা শোনার পরেরদিনই বেরিয়ে পড়েছিলাম বাক্সপ্যাটরা নিয়ে। গন্তব্য বান্দরবান। যাওয়ার সময় মোবাইলে ভরে নিলাম গানটা। কে জানত সামনের কয়দিন আমাকে বুঁদ হয়ে থাকবে গোলাপী জাদুকরদের মূর্ছনায় ?
সেটাই ছিল বান্দরবানের গহীনে আমার প্রথম সফর। প্রথমবারের মতো পাহাড়কে কাছ থেকে দেখা, তারিয়ে তারিয়ে তার সৌন্দর্য উপভোগ করা। মেঘ চিরে যখন আমাদের চাঁদের গাড়ি বেরিয়ে আসত রৌদ্রালোকিত রাস্তায়, এখনও  মনে আছে তখন “আই ওয়াজ স্টেয়ারিং স্ট্রেইট, ইন্টু দ্যা শাইনিং সান” লাইনটা যেন ভাসিয়ে নিয়ে গেল অন্য এক জগতে।
নাহ, উপমাটা ঠিক ভালো হলো না। আসলে যেভাবে গানটার সঙ্গে স্মৃতির অনুভূতিটা ঠিক লিখে বোঝানো যাবে না। এই গানটা শুনেই মনে হয়েছে, এমন কিছু সৃষ্টি করেই চিরতরের জন্য শান্তিতে চোখ মুদে ফেলা যায়। এমন একটা গানই গিলমোরকে দেবে অমরত্বের স্বাদ।


ঢাকার প্রেম

  ‘আমরা তিনজন একসঙ্গে তার প্রেমে পড়েছিলাম : আমি , অসিত আর হিতাংশু ; ঢাকায় পুরানা পল্টনে , উনিশ-শো সাতাশে। সেই ঢাকা , সেই পুরানা পল্টন , সেই ...